বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে নেতৃত্ব, আদর্শ ও ত্যাগের অবিচল প্রতীক জনাব তারেক রহমান। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি, এক দূরদর্শী নেতা, প্রজ্ঞাবান সংগঠক ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অবিচল যোদ্ধা। তাঁর চিন্তা ও ত্যাগ আজ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল আলোকস্তম্ভ।
জনাব তারেক রহমান ১৯৬৭ সালের ২০ নভেম্বর কুমিল্লা সেনানিবাসে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পর থেকেই তিনি বেড়ে ওঠেন এমন এক পরিবারে, যেখানে দেশপ্রেম, ন্যায়বোধ ও মানবতার আদর্শ ছিল জীবনের মূল ভিত্তি।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়, যখন তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, তখন অল্পবয়সী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। শৈশবেই তিনি প্রত্যক্ষ করেন স্বাধীনতার নির্মম সংগ্রাম ও ত্যাগের মূল্য। এভাবেই তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য কারাবন্দী হওয়া সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তিদের একজন, যার শৈশব জড়িয়ে আছে জাতির মুক্তির ইতিহাস ও এক পরিবারের অবিচল দেশপ্রেমের উপাখ্যান।
শিক্ষাজীবনের শুরু বিএএফ শাহীন স্কুলে। শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যবসায় ও সহপাঠীদের প্রতি সৌহার্দ্যের মাধ্যমে অল্প বয়সেই তিনি শিক্ষকদের প্রিয়পাত্রে পরিণত হন। এরপর তিনি অধ্যয়ন করেন সেন্ট জোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, যা তাঁর মানসিক বিকাশ ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা (এসএসসি) সম্পনড়ব করেন। এখানেও তাঁর মেধা, নেতৃত্বগুণ ও সংস্কৃতিমনস্কতা তাঁকে অন্যদের মধ্যে বিশেষভাবে আলাদা করে তোলে।
এই ধারাবাহিকতায় তিনি আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ডিগ্রি অর্জন করেন। একাডেমিক জীবনের প্রতিটি ধাপে তারেক রহমানের মধ্যে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেতে থাকে নেতৃত্ব, বিশ্লেষণী চিন্তা ও সংগঠনী দক্ষতার বীজ। ১৯৮৪-৮৫ শিক্ষাবর্ষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। প্রথমে আইন বিভাগে এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন।
শিক্ষাজীবনে অধ্যয়নের পাশাপাশি তিনি ছিলেন এক চিন্তাশীল, নীরব পর্যবেক্ষক-যিনি দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক বাস্তবতা গভীরভাবে অনুধাবন করতেন। পিতার শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন, মায়ের দৃঢ় নেতৃত্ব, এবং পারিবারিক ঐতিহ্য তাঁকে তৈরি করে এক প্রজ্ঞাবান ও দায়িত্বশীল তরুণ হিসেবে।
শৈশব থেকেই তারেক রহমানের বেড়ে ওঠা হয় রাজনৈতিক প্রেরণায় ভরপুর এক পরিবেশে। ছোটবেলা থেকেই তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন সংগ্রাম, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের শিক্ষা, যা পরবর্তীতে তাঁর চিন্তা ও ব্যক্তিত্বকে গড়ে তোলে এক গভীর রাজনৈতিক বোধে।
১৯৯৪ সালে তারেক রহমান বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মেধাবী চিকিৎসক ডাঃ জোবায়দা রহমান-এর সঙ্গে। তিনি বাংলাদেশের সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও মন্ত্রী রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান এবং শিক্ষাবিদ বেগম আফরোজা খানের কন্যা। ডাঃ জোবায়দা রহমান শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন থেকে মেডিসিনে উচ্চতর ডিগ্রি সম্পনড়ব করে রেকর্ড নম্বর ও স্বর্ণপদক অর্জন করেন।
তিনি ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রম স্থান অধিকার করে প্রজাতন্ত্রের চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন। পেশাগত জীবনে তিনি সততা, নীতিবোধ ও মানবিকতার জন্য চিকিৎসক মহলে বিশেষভাবে সমাদৃত ছিলেন। তারেক রহমান ও ডাঃ জোবায়দা রহমানের একমাত্র কন্যা জাইমা জারনাজ রহমান, পেশাগত জীবনে তিনি লন্ডনে আইন শিক্ষা সম্পন্ন করে ‘বার অ্যাট ল’ সম্পন্নকারী একজন ব্যারিস্টার। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি আন্তর্জাতিক প্রার্থনা অনুষ্ঠানে (ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট) অংশ নিয়ে পিতার প্রতিনিধিত্ব করার মাধ্যমে তিনি গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলের নজরে আসেন। শৈশব থেকেই তিনি মেধা, ব্যক্তিত্ব ও দেশপ্রেমের অনন্য পরিচয় রেখে আসছেন।
১৯৮৬ সালে, এরশাদ সরকারের আয়োজন করা একতরফা নির্বাচনের প্রাক্কালে, তরুণ তারেক রহমান সাহসিকতার সঙ্গে গৃহবন্দিত্ব এড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হন। ঢাকা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তুলে ধরেন, কীভাবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিরোধী আন্দোলনকে দমন ও একপাক্ষিক নির্বাচনের পথ সুগম করতে চেয়েছিল। এই সত্য উচ্চারণের পরপরই, স্বৈরশাসক জেনারেল এইচ. এম. এরশাদ তাঁর কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান ও তাঁর মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একাধিকবার গৃহবন্দী করে রাখেন।
১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলার গাবতলী থানা বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে, তিনি তার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় প্রচারণা চালান, জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে ভোটারদের আস্থা ও উৎসাহ জাগিয়ে তোলেন।
ফলস্বরূপ, নির্বাচনে বিশাল বিজয় অর্জিত হয় এবং বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে স্থান অর্জন করেন। তিনি বগুড়ায় তৃণমূল থেকে নেতা নির্বাচনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সূচনা করেন, যেখানে তিনি তখন বিএনপি শাখার একজন নির্বাহী সদস্য ছিলেন।
১৯৯৩ সালে, বগুড়া জেলা ইউনিটে তিনি একটি সম্মেলনের আয়োজন করেন, যেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন সম্পন্ন হয়। বগুড়ার এই সফল সম্মেলনের পর তিনি অন্যান্য জেলা ইউনিটকেও গণতান্ত্রিকভাবে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে উৎসাহিত করেন, যা দলকে আরও সক্রিয়, স্বচ্ছ এবং জনমুখী নেতৃত্বের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
২০০১ সালে তিনি রাজধানীতে একটি গবেষণা অফিস স্থাপন করেন, যেখানে স্থানীয় সমস্যার সমাধান, প্রশাসনিক সুশাসন ও নীতি বিশ্লেষণ করা হতো। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে, তারেক রহমানের দূরদর্শী ও কৌশলগত পরিকল্পনা দলের বিজয়ের একটি প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। নির্বাচনের মাঠে তাঁর নেতৃত্বগুণ এবং সংগঠনের সমন্বয় দলকে অগ্রগতির পথ দেখায়।
এরপর ২০০২ সালে, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর, তিনি তৃণমূল পর্যায়ে দলের পূর্ণাঙ্গ পুনর্গঠন শুরু করেন। এই কার্যক্রমে দল আরও দৃঢ়, সংগঠিত ও জনমুখী হয়ে ওঠে।
যার ফলশ্রুতিতে বিরোধী ও প্রভাবশালী শক্তিগুলো আতঙ্কিত হয়ে উঠে। তখন তাঁকে নির্যাতন ও নিপীড়নের লক্ষ্য করে প্রোপাগান্ডা, মিথ্যা মামলা ও মিডিয়া অপপ্রচারের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র চালানো হয়।
২০০৫ সালে, তারেক রহমান দেশব্যাপী তৃণমূল প্রতিনিধি সভার আয়োজন করেন। তিনি নিজেই সরাসরি ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে অংশগ্রহণ করেন, যেখানে কৃষি, শিক্ষা, পরিবেশ ও নারী উন্নয়ন নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেন। এই সভাগুলোর মাধ্যমে তিনি কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, শিক্ষা, নারীদের উপবৃত্তি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় উন্নয়নের বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলেন।
তিনি তৃণমূল পর্যায়ে জনগণকে কেবল সংযুক্তই করেন না, বরং স্থানীয় নেতৃত্ব ও সমন্বিত উন্নয়নের ধারণা সক্রিয় করার মাধ্যমে বাস্তব পরিবর্তনের দিকেও পরিচালিত করেন।
তারেক রহমান ১৮,০০০-এরও বেশি চিঠির জবাব নিজ হাতে লিখে প্রমাণ করেছেন, নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়, সেবা। তিনি দেখিয়েছেন যে, সত্যিকারের নেতা হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি মানুষের কষ্ট শুনে, তাদের সাথে সংযুক্ত হয়ে এবং সরাসরি সহায়তা প্রদান করে জনগণের আস্থা অর্জন করেন। তিনি কখনও ক্ষমতার আসনে বসেননি। চেয়ারপারর্সনের পুত্র হওয়ার পরও তিনি মন্ত্রিত্ব বা সংসদ সদস্যের পদ গ্রহণ করেননি। বরং তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রাখা, তাঁদের কষ্ট-দুর্দশা বোঝা এবং নেতৃত্বকে সেবা ও দায়িত্বের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীর মোড় পরিবর্তনের দিন। তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উদ্দিনের নিয়ন্ত্রণে অঘোষিত অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং দেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার জরুরি অবস্থা জারি করে একটি তথাকথিত “দুর্নীতিমুক্ত” শুদ্ধি অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের নামে শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ শত শত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে গ্রেফতার করা হয়। এর অংশ হিসেবে, তারেক রহমানকে ৭ মার্চ ভোরে ঢাকার ক্যান্টনমেন্টের মইনুল রোডের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি তখন বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং দলের অন্যতম কৌশলগত চালক। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ছিল অধিকাংশই “ঘুষ গ্রহণ” ও “অর্থপাচার” সংক্রান্ত, কিন্তু কোনো মামলায় বা আদালতে কোনো প্রকার প্রমাণ করতে পারেনি।
শুধু তারেক রহমানই নয়, তার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকেও কারাগারে পাঠানো হয়। আরাফাত রহমান কোকো, যিনি অরাজনৈতিক ও নিরীহ প্রকৃতির, মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত হন। পরিবারের ওপর চাপ এবং প্রিয়জনদের নিপীড়ন তার কোমলহৃদয় ভেঙে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি কোকো মালয়েশিয়ায় প্রবাসজীবনে নিঃসঙ্গ কষ্টে মৃত্যুবরণ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয় রাজনৈতিকভাবে মেরুকরণ ঘটানোর উদ্দেশ্যে, যাতে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান এবং বিএনপি নেতৃত্বশূন্য হয়ে যায়। এটি ছিল তৎকালীন সরকারের পরিকল্পিত ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলার অংশ।
গ্রেফতারের পর তারেক রহমানকে মধ্যযুগীয় পদ্ধতিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ফলে তার মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পান, যা পরবর্তীতে দীর্ঘস্থায়ী স্নায়ুব্যবস্থার সমস্যা সৃষ্টি করে। তীব্র ব্যথা, চলাফেরায় অসুবিধা এবং স্নায়বিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। রিমান্ডে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, ইলেকট্রিক শক, হাত বেঁধে ঝুলিয়ে পেটানো এবং উঁচু স্থান থেকে নিক্ষেপের মতো নির্মম প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ফলে মেরুদণ্ডের ৩৩টি হাড়ের মধ্যে দুটি ভেঙে যায়, স্কন্ধের হাড় ফ্র্যাকচার এবং হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে অসার অবস্থায় থাকতে হয়।
প্রায় ১৮ মাস জেলহাজতে থাকার পর তার শারীরিক অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তাকে আর আটক রাখা সম্ভব ছিল না। দেশের বিভিন্ন মেডিকেল বোর্ডও নিশ্চিত করে যে, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো জরুরি। অবশেষে ৫৫৪ দিন কারাবাসের পর ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৮ সালে জামিন পেয়ে ১১ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান, যেখানে তার স্পাইনাল সার্জারি এবং নিউরোথেরাপি করা হয়। চিকিৎসা গ্রহণের পরও আজ পর্যন্ত তিনি কিছু শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে পিঠে ব্যথা, দাঁড়িয়ে থাকা বা বেশি সময় বসে থাকা অসুবিধাজনক হয়ে পড়ে।
তারেক রহমানের উপর নির্যাতনের সংবাদ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার নজরে আসে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থা তার উপর নির্যাতনের ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করে। তারা জানায় যে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপর নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হয়রানি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি একটি গভীর রাষ্ট্রীয় সংকটের অংশ, যেখানে বিরোধীদলের কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখাই মূল উদ্দেশ্য।
২০০৯ সালে, তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর, ২০১৮ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী হলে, তাঁকেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। যদিও তিনি দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন, তবুও বিএনপির প্রতিটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী কৌশল ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দিকনির্দেশনা তাঁর নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়। ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়া সত্ত্বেও, তিনি কখনো দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হননি।
গত ১৭ বছরে তিনি দলের স্থিতিশীলতা ও শক্তি বৃদ্ধি করেছেন। অবৈধ সরকারের নানা ষড়যন্ত্রের মধ্যেও দলকে একীভূত রাখা এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও কলের মাধ্যমে প্রতিদিন দলের কার্যক্রম পরিচালনা করা তাঁর নেতৃত্বের অসামান্য প্রমাণ। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান বিএনপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি দলের পুনর্গঠন, রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ধারাবাহিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি নতুন প্রজন্মনির্ভর সংগঠন কাঠামো তৈরি করেছে, যেখানে প্রযুক্তি, গবেষণা এবং তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দলের নীতিনির্ধারণে তিনি সংগঠন বিকেন্দ্রীকরণ, তরুণ ও পেশাজীবী নেতৃত্বের অংশগ্রহণ এবং জনগণের সক্রিয় সম্পৃক্ততাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেন। দীর্ঘ নির্বাসনেও তারেক রহমানের নেতৃত্ব বিএনপির প্রেরণা ও একতাবোধের প্রতীক। দেশের ভিতর ও প্রবাসে নেতা-কর্মীরা আজও তাঁর দূরদর্শিতা, নির্দেশনা ও বুদ্ধিদীপ্ত পরামর্শ অনুযায়ী রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণ করছেন।
তারেক রহমানের নেতৃত্বগুণ আজ শুধু বিএনপি বা বাংলাদেশের রাজনীতিতেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতির অঙ্গনেও স্বীকৃত ও প্রশংসিত। তিনি একাধারে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনীতিক, নিখুঁত সংগঠক এবং নীতিনিষ্ঠ নেতা। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দেশপ্রেম এবং অক্লান্ত কর্মনিষ্ঠা এমন আস্থা সৃষ্টি করেছে, যেখানে সর্বস্তরের মানুষ, দল-মত নির্বিশেষে, দেশের নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ তাঁর হাতে দেখতে পান।
২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ও ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পেছনে তারেক রহমানের কৌশলগত নেতৃত্ব ও দূরদর্শী প্রজ্ঞা ছিল অন্যতম চালিকা শক্তি। দেশের প্রতিটি প্রান্তে যখন ছাত্রসমাজ, তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষ কোটা সংস্কার, ভোটাধিকার, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে নেমে আসে, তখন প্রবাসে থেকেও তারেক রহমান আন্দোলনের সার্বিক দিকনির্দেশনা, কৌশল নির্ধারণ ও মনোবল জোগানোর ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সুচিন্তিত দিকনির্দেশনা ও প্রেরণাতেই বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করে। তারেক রহমানের রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি, সংগঠন দক্ষতা ও অবিচল মানসিক শক্তি আন্দোলনকে শুধু একটি প্রতিবাদ নয়, বরং একটি জাতীয় জাগরণের প্রতীকে পরিণত করে। যেখানে তারেক রহমান ছিলেন সেই নীরব কিন্তু অনিবার্য প্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু।